তায়াম্মু
এর অর্থ সংকল্প করা। পারিভাষিক অর্থে পানি পাোয়া না গেলে ওযূ অথবা গোসলের পরিবর্তে
পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার ইসলামী পদ্ধতিকে তায়াম্মুম বলা হয়। এটি মুসলমুদের
জন্য আল্লাহ্র অন্যতম বিশেষ নিয়ামত। যাইতি পূর্বের কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। [বুখারী,
ফৎহুল বারী,হা/৩৩৪]
আল্লাহ্ বলেন, ‘আর যদি তোমরা পীড়িত হও বা সফরে থাক অথবা পায়খানা থেকে আস বা স্ত্রী স্পর্শ করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তাহা হলে তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর ও তা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাসাহ কর।[মায়েদাহ ৫/৬, নিসা ৪/৪৩]
তায়াম্মুম করার পদ্ধতি: পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে ‘বিসমিল্লাহ্’ বলে মটির উপর দুই হাত মেরে তাতে ফুঁক দিয়ে মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত একবার মাসাহ্ করবে।[মিশকাত,হা/১ ও ৪০২]
তায়াম্মুম এর কারণ সমুহ:
(১)যদি পাক পানি না পাওয়া যায়
(২)পানি পেতে গেলে যদি ছালাত কাজা হওয়ার ভয় থাকে।
(৩) পানি ব্যবহারে যদি রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা
থাকে।
(৪) যদি কে্ানো বিপদের অথবা জীবনের ঝুঁকি থাকে প্রভৃতি। উপরোক্ত কারণেরজন্য
ওযু অথবা ফরজ গোসলের পরিবর্তে প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে একটানা তায়াম্মুম করা যাবে।[ময়েদাহ,
৫/৬, বুখারী,হা/৩৪৪]
রাসূলুল্লাহ্ (সাং) বলেন,
…….إذا لم يحصل على الماء ولو لمدة عشر سنوات.
‘নিশ্চয়ই পবিত্র
মাটি মুসলমানদের জন্য ওযুর মাধ্যম স্বরুপ্।যদিও সে দশ বছর পর্যন্ত পানি না পায়।[মিশকাত,হা/৫৩০]
মাটি কাকে বলে:
আরবি পরি ভাষায় ‘মাটি’ বলতে ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝায়।
আরব দেশের মাটি অধিকাংশ পাথুরে ও বালুকাময়। বিভিন্ন সফরে আল্লাহ্র রসূল(সাং) ও ছাহাবিগন
বালুকাময় মরুভূমির মধ্য দিয়ে বহু দুরের রাস্তা পারি দিতেন্। বিশেষ করে মদীনা থেকে পায়
৭৫০কি:মি: দূরে ৯ম হিজরির রজব মোতাবেক ৬৩০ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে তাবুক যুদ্ধের
সফরে তাঁরা মরুভূমির মধ্যে দারুণ পানির কষ্টে পড়েছিলেন।কিন্তু ‘তায়াম্মুমের’ জন্য দূর
থেকে মাটি বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যায় না। অতঃএব ভূ-পৃষ্ঠের মাটি, বালি, পাথুরে
মাটি ইত্যাদি দিয়ে ‘তায়াম্মুম’ করা যাবে। তবে ধুলা মাটি হীন স্বচ্ছ পাথর,কাঠ,কয়লা,প্লাষ্টার,টাইলস,মোজাইক,চুন
প্রভৃতি দ্বারা ‘তায়াম্মুম’ করা জায়েয নয়। [ওযুর দোয়াই তায়াম্মুমের শেষে পড়তে হয়।]
তায়াম্মুম কেরে যে কাজ গুলো করতে পারবো
(ক) ‘তায়াম্মুম’ করে ছালাত আদায়ের পরে ঐ ওয়াক্তের
মধ্যে যদি পানি পাওয়া যায় তবুও পুনরায় ঐ ছালাত আর আদায় করতে হবে না।[আবুদাউদ,হা/৩৩৮,মিশকাত,হা/৫৩৩]
(খ) ওযুর করে যেসব কাজ করা যায়, ‘তায়াম্মুম’ করে
ও সে সব কাজ করা যায়।
(গ) যে সব কারণে ওযু ভঙ্গ হয়, সে সব কারণে ‘তায়াম্মুম’
ভঙ্গ হয়।
(ঘ) যদি পানি অথবা মাটি কোনো কিছু না পাওয়া যায়,
তাহ’লে বিনা ‘ওযু বা তায়াম্মুম’ ছাড়াই ছালাত আদায় করাযাবে।[বুখারী,হা/৩৩৬]

0 মন্তব্যসমূহ